November 27, 2025 3:40 pm
নতুন রাজনৈতিক জোটের ইঙ্গিত দিল এনসিপি|কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন ! জ্বলে পুড়ে ছারখার তবুও বাঁচার আকুতি।

চট্টগ্রামের লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে সরকারের ৩০ বছরের চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস–এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) ভিত্তিতে লালদিয়া চরে বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পাবে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এপিএম টার্মিনালস।

সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা, ডেনমার্ক সরকারের প্রতিনিধি, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।


ডেনমার্কের প্রশংসা: দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে

ভিডিওবার্তায় ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্সলকে রাসমুসেন বলেন, বাংলাদেশে আসা–যাওয়া সমস্ত কনটেইনারের প্রায় ৩০ শতাংশ পরিচালনা করে মেয়ার্স্ক। লালদিয়া টার্মিনালে এই বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যকার টেকসই অংশীদারত্ব ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি গভীর আস্থার প্রতীক।


চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, নদী ও ফিডার বন্দর হওয়ায় লজিস্টিক খরচ বেশি। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্রুত ও দক্ষ অপারেশনের প্রয়োজন—এই টার্মিনাল সেই প্রয়োজন পূরণ করবে।

এপিএম টার্মিনালসের সিইও কিথ স্বেন্ডসেন উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারার ও রপ্তানিকারকদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ তৈরি করবে।


পিপিপি বাস্তবায়নের সফল উদাহরণ

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্প প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে পিপিপি এখন কাগজে-কলম নয়, বাস্তবেও রূপ নিচ্ছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪৪% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও জানান—

প্রতি বছর ৮ লাখ TEU অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা যুক্ত হবে

বড় জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে

আমদানি-রপ্তানি সময় কমবে

৫০০–৭০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে আরও হাজারো পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে

ডিজিটাল অপারেশন সিস্টেম ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণে স্থানীয় দক্ষতা বাড়বে

এটি দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব গ্রিন পোর্ট হিসেবে গড়ে উঠবে

তিনি সমালোচনার জবাবে বলেন, টার্মিনালের মালিকানা বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে—এটি ভুল ধারণা।
“গাড়ি আমাদের, তারা শুধু চালক। চালক কখনো গাড়ির মালিক হয় না।”


দেশের বন্দর খাতে বড় পরিবর্তনের সূচনা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, রপ্তানিকারকেরা আরও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন এবং মেয়ার্স্কের মতো বিশ্বমানের অপারেটর বাস্তব সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।


উপসংহার

চট্টগ্রামের লালদিয়া চরে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ বাংলাদেশের বন্দর খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনি চাইলে আমি এই সংক্ষেপণটি আরও ছোট করে, রিপোর্টার-স্টাইল, বুলেট পয়েন্ট, অথবা সংবাদ পাঠের মতো সাজিয়ে দিতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Telegram

অন্যান্য খবর