এস কে টিভি স্পেশাল রিপোর্ট
দেশের রাজনীতির দিগন্তে আজ নতুন ভোরের আলো।
দীর্ঘ বিতর্ক, সংগ্রাম আর আইনি লড়াই পেরিয়ে
সর্বোচ্চ আদালত অবশেষে ফিরিয়ে দিলেন
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা—
যা একসময় ছিল জনগণের আস্থা, রাজনৈতিক স্থিতির প্রতীক।
আজ বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা ৪০ মিনিট।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে
সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ
ঘোষণা করলেন এক ঐতিহাসিক রায়—
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত।
এ যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে
এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেওয়া অধ্যায়ের পুনরাগমন।
রায়ের মূল কথা—যা বদলে দেবে সামনে আসা বাংলাদেশের নির্বাচনচিত্র
১️⃣ পূর্বের রায় বাতিল
হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিতর্কিত আগের রায়
‘ভুলে ভরা’—এমন মন্তব্য করে
সেটিকে সম্পূর্ণ বাতিল করলেন আদালত।
সঙ্গে মঞ্জুর হলো সব আপিল ও পুনর্বিবেচনার আবেদন।
২️⃣ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্জন্ম
সংবিধানের চতুর্দশ খণ্ডের ২এ অধ্যায়
আবার সক্রিয়—কার্যকর—প্রাণ ফিরে পেল।
১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যে কাঠামো এসেছিল,
তা আজ পুনর্বহাল হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে।
৩️⃣ কখন কার্যকর হবে?
স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুদ্ধার হলেও
এ ব্যবস্থার প্রয়োগ হবে শর্তসাপেক্ষে—
সংবিধানের ৫৮খ(১) এবং ৫৮গ(২) ধারা কার্যকর হলে
তবে শুরু হবে এর বাস্তব প্রয়োগ।
৪️⃣ ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য
এই রায়ের সরাসরি প্রভাব অতীতে পড়বে না,
কিন্তু আগামী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া—
বিশেষ করে নির্বাচনী কাঠামো—
এই রায়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠবে।
৫️⃣ কোন নির্বাচন কোন ব্যবস্থায়?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
চলমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে।
চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন থেকে
সম্পূর্ণ কার্যকর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।
আইনি লড়াইয়ের পটভূমি—যা বদলে দিয়েছে ২৫ বছরের স্রোত
২০১১ সালে প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে
বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা।
কিন্তু সেই রায় ঘিরে তৈরি হয়
অনেক প্রশ্ন, বিতর্ক, অভিযোগ—
রায়ে পরিবর্তনের অভিযোগও ওঠে বিচারপতির অবসরের পর।
এ রায়কে আশ্রয় করে দলীয় সরকারের অধীনে
তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনীতি ক্রমেই সরে যায় আস্থাহীনতার দিকে।
গত বছরের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর
আবার আইনি লড়াই শুরু হয়—
আর আজ তারই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করলেন আদালত।
কারা লড়েছেন আদালতে?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার
পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক
আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কাজল
আইনজীবী শিশির মনির, শরীফ ভূঁইয়া
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
অন্তিম প্রশ্ন—বাংলাদেশের রাজনীতির সামনে কী আসছে?
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরে আসায়
রাজনীতির মাঠে নতুন হিসাব, নতুন উত্তেজনা,
নতুন সম্ভাবনা।
আস্থা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার
যে পথে একসময় দেশ হাঁটছিল,
সেই পথেই যেন আবার ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত রেখেছে
আজকের রায়।
এখন দৃষ্টি একটাই—
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন,
এবং তার পর
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচন।