এস কে টিভি নিউজ
বিশেষ প্রতিবেদন | বারী সিদ্দিকীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী
বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আকাশে এক অনন্য নাম বারী সিদ্দিকী। তাঁর বাঁশির সুরে ভাটিয়ালি নদীর ঢেউ, তাঁর কণ্ঠে গাঁয়ের মানুষের সুখ-দুঃখ, আর তাঁর গানে খুঁজে পাওয়া যেত বাংলার মাটির পুরনো গন্ধ। আজ তাঁর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করছি সেই মাটির মানুষটিকে—যিনি ছিলেন সুরের সাধক, শব্দের ঋষি, আবেগের প্রবাহ।
নিশীথ রাতে বাঁশির সুরে তিনি যেন ডেকে আনতেন হাজার বছরের লোকজ ভুবন। শ্রোতারা বলতেন—বারী সিদ্দিকীর কণ্ঠে যেন একটা প্রার্থনা থাকে, একটা অদ্ভুত ব্যথা, আবার একই সঙ্গে গভীর শান্তির ছোঁয়া। তিনি যখন গাইতেন “আমি দুঃখকে ভালোবেসেছি”—তখন মনে হতো, সত্যিই দুঃখ আর মানুষের হৃদয়ের মাঝখানে একটি সেতুবন্ধন আছে, আর সে সেতুটি নির্মাণ করেন শিল্পীরাই।
তাঁর জীবন ছিল স্নিগ্ধ অথচ সংগ্রামে ভরা। সঙ্গীতকে তিনি দেখতেন সাধনার চোখে, খ্যাতিকে দেখতেন উপেক্ষার দৃষ্টিতে। দীর্ঘ চার দশকের শিল্পযাত্রায় তিনি লোকগান, আধ্যাত্মিক গান, ভাটিয়ালি, বাউল—সব ধারাকেই নিজের কণ্ঠে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর বাঁশি ছিল তাঁর নীরব ভাষা—যেখানে শব্দ নেই, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা আছে।
আজ বারী সিদ্দিকী নেই, কিন্তু তাঁর সুর আছে; তাঁর গান বাংলা মাতৃভাষার মতোই মানুষের হৃদয়ের ভেতর বাসা বেঁধে আছে। নদীর তীরে দাঁড়ালে, দূরে কোনো শালিকের ডাক শুনলে কিংবা বাদ্যের মৃদু আর্তনাদ ভেসে এলে মনে পড়ে তাঁর সেই চিরচেনা সুর।
বাংলা লোকসঙ্গীতের ইতিহাসে বারী সিদ্দিকী এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এস কে টিভি নিউজ তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।
তাঁর সুর বেঁচে থাকুক শিল্পপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে—যেমন বেঁচে থাকে নদীর স্রোত, বাতাসের দোলা, মাটির গন্ধ।
শ্রদ্ধা বারী সিদ্দিকী – লোকসঙ্গীতের সরল সাধক, সুরের দীপশিখা।