ইসলাম ও জীবন ডেস্ক | এস কে টিভি নিউজ
প্রকাশ: আজ
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন— ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক লভ্যাংশ বা মুনাফা গ্রহণ করে সংসার চালানো কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ?
বিশেষত সাম্প্রতিক আর্থিক পরিস্থিতিতে পরিবার চালাতে অনেকেই ডিপিএস, এফডিআর বা সেভিংস স্কিমে আশ্রয় নিচ্ছেন। কিন্তু শরীয়ত কি বলে?
🔶 ইসলামি ব্যাংক—নামের ইসলাম, কার্যক্রমে কতটা শরীয়ত?
ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে “ইসলামি ব্যাংক” নামে পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠান শরীয়তের পূর্ণ বিধান অনুসরণে এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
তাদের বক্তব্য—
“এদেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ কার্যক্রমে শুদ্ধ শরীয়ত মেনে চলে না; আমানতদার ও ব্যাংকের সম্পর্কও পুরোপুরি বৈধ কাঠামোতে গড়ে ওঠে না।”
ফলে ডিপিএস, এফডিআর বা মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়ে যুক্ত হওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থে শরীয়তসম্মত বিনিয়োগ করছে কিনা।
🔶 প্রচলিত ব্যাংকের ‘মুনাফা’—আসলে সুদ, স্পষ্ট হারাম
ফতওয়া বিভাগ জানায়—
প্রচলিত ব্যাংকের যে কোনো মেয়াদি জমায় (FDR/DPS) “মুনাফা”নামের অর্থ সরাসরি সুদ, যা কুরআন–সুন্নাহর স্পষ্ট দলীল অনুযায়ী হারাম।
“সুদের চুক্তিতে প্রবেশ করা ইসলামে কঠোর নিষিদ্ধ। প্রচলিত ব্যাংকের সেভিংস বা এফডিআরে রাখা টাকা থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা জায়েজ নয়।”
এমনকি মোবাইল আর্থিক সেবা (বিকাশসহ)–এর জমাকৃত টাকারও একই বিধান, যদি সেখানে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়।
🔶 ইসলামি ব্যাংকের ডিপিএস–এ লভ্যাংশ—অবস্থা ‘সন্দেহজনক’
বিশেষজ্ঞদের মতে,
ইসলামি ব্যাংকের নামধারী অনেক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পদ্ধতি শরীয়তসম্মত নয়। সন্দেহজনক চুক্তিতে শামিল হওয়া ইসলামিক বিধানে অনুমোদিত নয়। তাই—
“যতদিন পর্যন্ত শরীয়ত পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ নিশ্চিত না হয়, ততদিন ইসলামি ব্যাংকের ডিপিএস বা এফডিআরের লভ্যাংশ গ্রহণ করা উচিত নয়।”
হালাল–হারাম বেছে চলতে আগ্রহীদের জন্য এটি বিশেষ সতর্কবার্তা।